খোঁজ করুন

আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশন,লালমনিরহাট

উদ্দেশ্য স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা

আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশনের কার্যক্রম

Advertisements

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নতুন কাপড় বিতরণ-২০১৫

ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কারণ অভাব তাদের পিছু ছাড়েনি। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তাদের নতুন জামা কাপড় পড়ে ঈদ করাটা অনেকটা স্বপ্নের মত। তাদের সেই স্বপ্ন কে বাস্তবে রূপ দিতে কাজ করছে আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশন। আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশনের ১৫ টি শাখা থেকে প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে নতুন কাপড় বিতরণ করা হয়। এছাড়াও ঈদের আগের দিন সেমাই, চিনি, দুধ বিতরণ করা হয়। যেন প্রতিটি অসহায় পরিবার ঈদের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদ উপলক্ষে অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে নতুন কাপড় বিতরণ করা হয়েছে। আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশনের নিজস্ব তহবিল থেকে লালমনিরহাট জেলা শহরে ১০০ টি শাড়ি এবং ২০ টি লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ডেমরা আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে ৫০ টি শাড়ি ও ১৫ টি লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। অন্যান্য শাখা মিশন থেকেও নতুন কাপড় এবং সেমাই, চিনি বিতরণ করা হয়েছে। আদর্শ আহ্‌ছানিয়া মিশনের উদ্দেশ্য “স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টির সেবা”। তরীকা ভিত্তিক এ মিশন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুন।

11008639_1616630271952190_73042456448939258_n 10984091_1616615968620287_2825060654617368605_n 11693813_1616615971953620_3282576287793142874_n

লালমনিরহাটে ঈদে-ই মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

100

জশনে জুলুসে ঈদে ই মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষ্যে আনন্দ র‌্যালি।

লালমনিরহাট\ আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় আদর্শ আহছানিয়া মিশন,লালমনিরহাটের উদ্যোগেঈদে ই মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষ্যে ( জশনে জুলুসে) এক আনন্দ র‌্যালি  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জশনে জুলুসে ঈদে ই মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষ্যে র‌্যালিটি সকাল সাড়ে ৯ টায় শহরের বালাটারী আদর্শ আহছানিয়া মিশন লালমনিরহাটের কার্যালয় থেকে শুরু হয়। র্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিশনের নিজ কার্যালয়ে এসে সাকাল সাড়ে ১১ টায় সমাপ্ত হয়। র‌্যালিতে নেত্বত্ব দেন আদর্শ আহছানিয়া  মিশন, লালমনিরহাটের সভাপতি পাবর্ত চট্রগ্রাম  বিষয়য়ক মন্ত্রনালয়ের অবসরপ্রাপ্ত চীফ একাউন্টস অফিসার মোঃ ফজলুল করিম। র‌্যালিতে বিভিন্ন বয়সের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা অংশগ্রহন করেন।

101

জশনে জুলুসে ঈদে ই মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষ্যে আনন্দ র‌্যালি। (২০১৩)

এখানে দেখুনঃ

http://dtbangla.com/?p=27525

http://www1.bssnews.net/bangla/newsDetails.php?cat=4&id=161362$date=2013-01-26&dateCurrent=2013-02-03

বাংলাদেশের একজন উচ্চ স্তরের অলী খান বাহাদুর আহছানউল্লা (রহ:) এর এর কিছু কথাঃ

১. আমি বাল্যকাল হইতে নামাজ পরিয়া আশিতেছি, যখন ইহার পূর্ণ সাদ পাই নাই তখনো ইহার হইতে অবসর লইতাম না, আমি দেখিতাম আমার বৃদ্ধ পিতা মাতা নামাজ কাজা হইলে বালকের নেয় রোদন করিতেন, তাই আমিও নামাজ কাজা করিতে ভয় পাইতাম, নামাজ মানুষকে যে কি অমুল্য এনায়েত দান করিতে পারে, তাহা আমি অন্তিম কালে উপলব্ধি করিয়াছি.  খোদাওয়ান্দ করিম প্রিয়তম নবীকে নিজের কাছে আহবান করত গুপ্ত জ্ঞআন দ্বারা মোস্তাফিজ করিয়াছিলেন এবং মেরাজ শরিফ হইতে বিদায়কালে যে নামজ তোফা হিসাবে রাব্বুল আলামিন তাহার প্রিয়তম হাবিব কে তাহার পেয়ারা উম্মতের জন্য বখশিস করিয়াছিলেন, আমি সেই নামাজ কে করুনাময়ের করুনার মহৎ দান বুঝিয়া কন্ঠহার কোরিয়া রাখিয়াছি, তাহারি কৃতজ্ঞতা জ্ঞেপনের জন্য. এ যে মহা দান যে দানের দ্বারা তুচ্ছ মানব সেই মহাপরাক্রমশালী রহমানুর রহিমের সহিত যোগাযোগ সাধন করিতে সামর্থ হয়.

২. আমি শেষ জীবনে সর্বদা বাওযু থাকি এই ভয়ে যে, যাহার স্মরণ প্রতি মুহুর্তে রক্ষনিও, বে- ওজু থাকিলে পাছে পরমার্ধের প্রতি  অভক্তি প্রদর্শন হয়.

৩. আমি জীবৎকালে দাড়িতে ক্ষুর-সংযোগ করিনাই এই খেয়ালে যে, ইহাতে আমার আকা, যিনি আমার জীবনের আদর্শ তাহার প্রতি অসম্মান করা হইবে.

৪. আমি কখনো সিতি কাটি নাই এই ভয়ে যে যাহার ভিতর সৌন্দর্য নাই সিতি তাহাকে কি সোন্দর্য দিবে.

৫. আমি কখনো অলিক আমোদ প্রমোদে যোগদান করিনাই এই হেতু যে উহা কু প্রবৃত্তি কে উত্তেজিত করে.

৬. জীবনের অনকে সময় অনেক বিকর্ষণ আসিয়াছে যাহা হইতে রক্ষা পাবার জন্য মহাপ্রভুর দরবারে মদদ চাহিয়াছি মনের বলের জন্য, সুপথে চলিবার জন্য এবং তাহা পাইয়াছি .

৭. একমাত্র শৈশবকালে যাত্রা গান শুনিয়াছি, আর একবার যৌবনের প্রারম্ভে লোক দ্বারা প্রলুব্ধ হইয়া থিয়েআটার দেখিয়াছি. অতপর খোদার দরবারে হাত উঠাইয়া একরার করিয়াছি, হে খোদা, যে জিনিসের আকর্ষণ
আমার ক্ষুদ্র শক্তিকে পরাস্ত করিতে চায়, সে জিনিস হইতে যেনো সারা জীবন দুরে থাকিতে সমর্থ হই.

৮. নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করিতে গৌরব বোধ করি. আঁ-হজরতের(দ:) দৃষ্টান্ত মনে করিয়া মেহথরের কাজ করিতেও সংকোচ বোধ করি না. বরং ছুন্নত পালন হেতু মনে এক অপরিসীম আনন্দ অনুভব হয়.

৯. আঁ-হজরতের(দ:) ফরমান অনুসারে কাপড়ে যতক্ষণ তালি সহে, ততক্ষণ ইহা ব্যবহার করি এবং করিতেও আনন্দবোধ করি.

১০. আহার কালে সর্বাগ্রে তিতো ও সর্বশেষে মিষ্টি খাইতে ভালবাসি. ইহাতে ছুন্নত আদায়  হয় ও অন্তরে প্রসাদ জন্মে.

১১. রাত্রিকালে আহার অন্তে “চেহেল কদমী” ক্ষুধার অনুকুল, ইহাতে বেশ উপকার বোধ করি.

১২. আহারে বসিবার কালে একজানু বা উভয়্জানু  উচু রাখিলে অত্যাধিক ভোজনের কুফল হইতে রক্ষা পাওয়া যায়, এজন্য আমার নিকট উহা বেশ ভালো বোধ হয়.

১৩. আহার কালে শরীর ও মস্তক আবৃত থাকিলে ছুন্নত আদায় হয় ইহা আমি অভ্যাস করিয়া আনন্দ পাই.

১৪. প্রত্যেক লোকমা লইবার সময় খোদার নিয়ামত মনে করিলে অন্তকরণটি ভরিয়া যায়, আর আহার অন্তে শুকরিয়া সানন্দে আদায় করিতে ইচ্ছা হয়.

১৫. সর্বদা শরীর ও মনকে পাক রাখিলে এক বিশুদ্ধ আনন্দ উপভোগ করা যায়, ছুন্নত ও আদায় করা হয়.

১৬. অল্পাহারে শরীর হালকা বোধ হয়, রাত্রি জাগরণে সুবিদাহ হয়.

১৭. শয়ন কালে দয়াময় কে ইয়াদ করিয়া তাহারই অনুগ্রহ কামনা করিয়া দরুদ শরিফ পড়িতে পড়িতে নিদ্রা গেলে, রাত্রিটি ভালো কাটে.

১৮. আয়াতাল কুরছি পড়িয়া শয়ন করিলে কুস্বপ্নো হইতে রক্ষা পাওয়া যায়.

১৯. শয়ন কালে খোদার নিকট তাহাজ্জ্দ পড়িবার ভিক্ষা চাহিলে ঠিক অভিপ্রেত সময়ে নিদ্রা ভাঙ্গিয়া যায়, কখনো কখনো সাভাব সাহায্য করে.

২০. রাত্রিকালে নাপাক অবস্থায় কাটাইলে মনে কলুষ জন্মে, ছুন্নতের খেলাফ হয়, অশান্তি সৃষ্টি হয়, সাস্থ্য ভঙ্গ হয়, তৎক্ষনাত অবগাহনে মনে স্ফূর্তি জাগে.

২১. দক্ষিন করটে শয়ন করিলে কলবের উপর চাপ পড়ে না, পাছানফাছ আদায় করিতে সুবিধা হয়. মন নাপাক থাকিলে নানা ব্যধির উৎপত্তি হয়, এবোতে আনন্দ বোধ হয় না. দিবা রাত্র সকল অবস্থায় পাক থাকা ছুন্নত.
২২. অধিক সময় নিদ্রা থাকিলে এবাদতে অলসতা জন্মে, ঐশী প্রেমের লাঘব হয়.

২৩. পায়খানা প্রস্রাবকালে যদি সুর্য কিংবা চন্দ্র সম্মুখে পড়ে. খোদার নিয়ামতের উপর ঔদাসীন্য প্রকাশ পায়.

২৪. লোকের ব্যেবহার্য স্থানে পায়খানা প্রস্রাব করিলে লোকের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, খোদাও অসন্তুষ্ট হন.

২৫. পায়খানা প্রস্রাব এর স্থানে অসৎ আত্মার বিচরণ হয়, সুতরাং যতটা সম্ভব নিজের সম্ভ্রম বজায় থাকে, আর যত শিগ্রই ওই স্থান তেগ করা যায় ততই শুভো. যাতে মনের প্রতি কুভাবের প্রশ্রয় না হয়, তৎপ্রতি লক্ষ্য রাখা ভাল. ইহাতে ছুন্নত আদায় হয় ও দুশ্চিন্তা হইতে মুক্ত থাকা যায়.

২৬. মনোবৃত্তি এইরূপে পরিচালিত করিতে হয়, যাহাতে কু-চিন্তার অবসর না হয়, কু-চিন্তায় রিপুগুলি পুষ্ট হয়, আর আত্মার ক্ষতি জন্মে.

২৭. পায়খানা প্রস্রাব এর পর ওজু করিলে মনে স্ফূর্তি হয়. ইহাকে অর্ধ অবগাহন মনে করা উচিত.

২৮. নিদ্রাকে লঘু করিলে এবাদতের জন্য অধিকতর সময় পাওয়া যায়. পাচ ঘন্টার অধিক নিদ্রা পরিতেজ্য. অভ্যাস কে যেরূপ করা যায় সেরূপ হয়. যাহার তাহাজ্জদ গুজার তদের পক্ষে নিদ্রা বাহুল্য খুব ক্ষতিকর. তাহজ্জদের সময় অতিবাহিত হইতে থাকিলে কানে অপরের আওয়াজ আসে, কখনো বা অপরের ডাক শোনা যায়, কখনো বা স্বভাবের বেগ ধারণ অসম্ভব হইয়া পড়ে. ঐশী শক্তি যে প্রত্যেকের অন্তনিবিষ্ট, তাহা ওই সময় বেশ অনুভূত হয়. নির্ধারিত সময় নিদ্রিতকে জাগাইতে যেনো ফেরেশতা নিয়জিত থাকেন.

২৯. যে এবাদতে মহব্বত নাই, তাহাতে দিল গলে না, মনে স্ফূর্তি হয় না. কুরআন শরিফ ও দরুদ শরিফ পাঠ করলে খোদা ও রাছুলের প্রতি ভক্তি ও প্রেমের উন্মেষ হয়, আসন হইতে উঠিতে মন চায়না.

৩০. মোনাজাত কালে মনে করিতে হয় যেনো খোদা সবি শুনিতেছেন, বুঝিতেছেন সুতরাং তাহারই দরবারে তাহারই মাহাত্মের উপযোগী প্রার্থনা জ্ঞেপন করা ভালো. সেখানে হাট বাজার সাধারণ বিষয় ভিক্ষা চাওয়া মোনাজাতের গুরুত্বের খেলাফ এই জন্য কামেল বেক্তি নিকটতমের নিকট যাচনা জানাইতে নারাজ.

৩১. নামাজে খোদাকে হাজের নাজের না জানিলে নামাজের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় না.

৩২. নামজের তরতিব এমন ভাবে নিয়ন্ত্রিত, যে উহা সম্পূর্ণ ভাবে আদায় করিতে পারিলে মনে দীনতার উদয় হয়; খোদার মহাত্ম মনে জাগরিত হয়, মনোভাব বিনিময়ের সৌকার্য সাধিত হয়.

৩৩. হাকিমের নিকট উপস্থিতি হইতে হইলে যেমন আকাংখা বিষয় মনে করিতে হয়, সেইরূপ নামাজ আদায় করিবার পূর্বে ওজু করিতেই প্রার্থিতব্য বিষয় মনে করিতে হয়. দুনিয়াবী চিন্তা কে খায়ের বাদ করিতে হয়.

৩৪. যে যে বস্তুর আশেক, সে সর্বদা সেই বস্তুকে কে চিন্তা করে. কেউবা অর্থ চিন্তা করে, কেউবা সন্তান চিন্তা, কেউবা স্ত্রী চিন্তা, কেউ বা সন্মান চিন্তা, কেউবা বন্ধু চিন্তা, কেউবা গনিকা চিন্তা, আর কেউবা খোদা ও রাসুল চিন্তা করে. আমরা বেশ বুঝিতে পারি আমরা কাহার আশেক. পরকালে আমরা ওই বস্তু পাবো ইহকালে আমরা যে বস্তুর আশেক. কেউ বা খোদা ও রাসুলের দিদার পাবে আর কেউ বা নিজ নিজ পূজিত রিপুর ধন ভোগ করিবে.

৩৫. চা, পান, তামাক, আমার প্রিয় নহে. কোনো বস্তুর প্রতি অভ্যস্ত হইলে সেই বস্তু পূজ্য হইয়া উঠে, সর্বদা তাহারি কথা মনে জাগে সুতরাং ইহাও এবাদতের অন্তরায়.

৩৬. পার্থিব চিন্তা শরীরকে অবসন্ন করে, রিপুগুলিকে পুষ্ট করে. হিংসা, দ্বেষ, পরনিন্দা প্রভৃতি নফছকে পুষ্ট করে. আর ঐশী চিন্তা মনে প্রসাদ উত্পন্ন করে. তাই সাংসারি চিন্তা কে পশ্চাদবর্তী করিয়া পরমার্থ বস্তুর প্রতি মনকে নিয়জিত করাই শ্রেয়.

৩৭. স্ত্রী, পুত্র, অর্থ, খাদ্য, স্বাস্থ্য সকলকেই ভালবাসি, কিন্তু দান হইতে দাতাকে অধিকতর ভালবাসিতে ইচ্ছা হয় ও তাহাতেই প্রকৃত আনন্দ পাওয়া যায়.

৩৮. ভক্ত দেখিলে তাহার পদধুলি চুমিতে ইচ্ছা হয়, তাহাকে মস্তকোপরি লইয়া নৃত্য করিতে মন চায়, তাহার পায়ের অঙ্গুল গুলি বক্ষের মধ্যে পুরিয়া রাখিতে ইচ্ছা হয়. যাহাকে ভালোবাসা যায় তাহার প্রিয় সকল বস্তুকে সত্যি ভালবাসিতে চায়.

৩৯. পরহেজগারী মনে শরীরে নহে. মন পাক না থাকিলে কেবল শরীরকে পাক রাখিবার চেষ্টা বৃথা, পবিত্র মনে আয়াত শরিফ বা দরুদ শরিফ পড়িয়া কোনো বস্তুতে দম করিলে ফায়দা হয়, কেন হয় বুঝিনা, ফল দেখিয়া অনকে সময় বিস্মিত হই, স্বীয় হিনত্ব অনুভুত হয় ও খোদার মহত্ব উপলব্ধি হয়.

৪০. কোরান শরিফ কে খোদার খাছ দান মনে করি. উহাকে তাজিম করিলে খোদাকে তাজিম করা হয়. ভক্তের কথা কত ভালো লাগে আর ভক্তিময়ের কথা কত সহস্র গুনে ভালো, কেউ কি তার মর্যাদা বুঝে? কোনো বোজর্গের পত্র পাইলে কত তাজিম করি, আর সয়ং খোদার কালামের প্রতি কত তাজিম, কত ভক্তি, কতো শ্রদ্ধা করা উচিত. তেলওয়াতে মনে নতুন প্রেরণা জন্মে, দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি হয়, বার্ধক্যের ভার লঘু হয়, ব্যাধি নিরাময় হয়, কার্যে উদ্দাম জন্মে.

৪১. প্রত্যেক দিন প্রাতে দরুদ শরিফ ও তৎসহ খোদার কালাম কিছু না পড়িলে মনে শান্তি পাই না, কাজেও আগ্রহ আসে না.

৪২. যখন পাখি হইতে “হক কথা কও” শুনি, “পীও কাহা” বলিয়া উড়িয়া জিতে দেখি, তখন তাহর সাথে উধাও হইয়া উড়িতে ইচ্ছা হয়. যখন মোরগ তাহ্জ্জদের ওয়াক্তে মানুষকে নিদ্রা হইতে জাগাইয়া দেয়, তখন স্রষ্টার প্রতি কি পবিত্র প্রেমের সঞ্চার হয়; যখন হাস, কবুতর, শালিককে প্রেমাবদ্ধ হইয়া জোড়া জোড়া চরিতে দেখি, তখন মনে কি প্রেমের তরঙ্গ উথলিয়া উঠে.

৪৩. যখন ক্ষুদ্র ঘাস ফুলের মধ্যে অচিন্ত শিল্পের পরিচয় পাই, যখন গোলাপের সুগন্ধ মনকে ভরপুর করে, যখন পাতাবাহার দৃষ্টি শক্তিকে হরণ করে, যখন পাখির কুঞ্জন কর্ন কুহরকে তৃপ্ত করে,যখন প্রাত:কালীন বা সন্ধার হিল্লোল শীতল করে, তখন চকিতে দায়াময়ের অফুরন্ত দয়ার কথা মনে পড়ে. তাহার সৃষ্টি কৌশল আত্মাকে মুগ্ধ করে, বুক ধরফর করিতে থাকে, আর প্রেমময়ের সান্নিধ্য কলবকে তোলপাড় করে.

৪৪. যখন খোদা তাহারই আয়াত শরিফ এর অছিলায় কাহাকেউ রোগ হইতে মুক্ত করেন, সে মানুষ হোউক, পশু হোউক, আর উদ্ভিদ হোউক, তখন কৃতজ্ঞতায় সারা হৃদটি আপ্লুত হয়. আর খোদাকে বুকের মধ্যে পুরিয়া কত করিতে ইচ্ছা জন্মে.

৪৫. আমি সুগন্ধি ভালবাসি, পুষ্প দেখিতে ভালবাসি, পরস্কৃত পরিচ্ছন্ন থাকিতে ভালবাসি. ইহাতে খোদারই এহছান মনে জাগুরুক থাকে.

৪৬. আমি চরিত্র গঠনকে এবাদতের প্রধান অঙ্গ মনে করি. যার চরিত্র গঠিত নয় তার এবাদত বেকার.

৪৭. একই হৃদয়ে খোদি ও খোদার মিলন অসম্ভব. হয় খোদিকে ছাড়িয়া খোদাকে এখতিয়ার করো, না হয় খোদাকে ছাড়িয়া খোদি বা আমিত্ব নিয়া থাকো. আমিত্ব থাকিতে খোদার উপর মহব্বত কায়েম হয় না. তরিকত পন্থী খোদার পূজক.

৪৮. মহব্বত পোক্ত হইলে তছদিক জন্মে, খোদার এককত্ব অনুভূত হয়, তাওহিদ জ্ঞেন লাভ হয়. মহব্বত আমার একমাত্র শিক্ষা একমাত্র দীক্ষা.

৪৯. আ-হজরতের প্রতি অটল ভক্তি না জন্মিলে তাহার উম্মাতের দাবি করা যায় না, পরকালে মুক্তির আশা করা যায় না. তাহারই দয়া আমার জীবনের একমাত্র সম্বল.

*এই কথা গুলো পড়লে খুব সহজেই জানা যায় তিনি কত উচ্চ স্তরের অলি ছিলেন।

হযরত আতিয়ুর রহমান খান (র:) এর উরশ মোবারক উদযাপনঃ

গত ১,২,৩  অক্টোবর ২০১২ তারিখ আদর্শ আহ্ছানিয়া মিশনে উদযাপিত হল হযরত আতিয়ুর রহমান খান (র:) এর উরশ মোবারক। এ উপলক্ষে তিন দিন ব্যপি অনুষ্ঠান করা হয়। প্রথম দিন মিলাদ মাহ্ফিল ও যিকির, দ্বিত্বীয় দিন মিলাদ মাহ্ফিল, গজল, হযরত আতিয়ুর রহমান খান (র:) এর জীবনী আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে দূর দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসে। লালমনিরহাট মিশনের সদস্য ও একাকাবাসী ছাড়াও কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া থেকেও অনেকে অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। লালমনিরহাট মিশনের সদস্যরা অনুষ্ঠান সফল করার জন্য দিনরাত কাজ করে অনুষ্ঠান সফল করে। তৃতীয় দিন সকালে মিলাদ করে তবারক বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন ছাড়াও গ্রামের মানুষদের মাঝেও তবারক বিতরন করা হয়। আদর্শ আহ্ছানিয়া মিশনের বড় তিনটি অনুষ্ঠানের মধ্যে একটি এই অনুষ্ঠান।

অহংকার সমন্ধে কোরআন ও হাদীসের বানী:

প্রিয় পঠক ! জানিয়া রাখ, তাকাব্বুর তথা অহংকার এবং উজব অর্থাৎ নিজকে গুনী ও বুযুর্গ বলিয়া মনে করা বড় নিকৃষ্ট স্বভাব। অহংকারী ব্যক্তি প্রকৃত প্রস্তাবে মহাপ্রভূ আল্লাহ্ তা‘আলার সহিত প্রভূত্ব লইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়া থাকে। কেননা, বাস্তবিকরূপে প্রভুত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের এক মাত্র অধিকারী আল্লাহ্ তা‘আলা ভিন্ন আর কেহই নহে। অহংকারী ব্যক্তির নিন্দাবাদ কোরআন পাকের বহু স্থানে উল্লেখ করা হইয়াছে-
অর্থ: অর্থাৎ,‘এই প্রকারে আল্লাহ্ তা‘আলা প্রত্যেকটি অহংকারী ও গর্বিত লোকের অন্তরে মোহর লাগাইয়া থাকেন।’ (পারা ২৪ : সূরা মু‘মিন : রুকু ৪)
আল্লাহ্ তা‘আলা আরও বলিয়াছেন ‘প্রত্যেক অহংকারী অবাধ্য লোক ধ্বংসপ্রাপ্ত হইয়াছে।’ আল্লাহ্ তা‘আলা বলিয়াছেন-
অর্থ: ‘নিশ্চয়, আমি আমার প্রভু ও তোমাদের প্রভুর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি বিচারের দিনের প্রতি অবিশ্বাসকারী প্রত্যেক অহংকারী ব্যক্তি হইতে।’ (পারা ২৪ : সূরা মু‘মিন : রুকু ৩)
সূত্রঃ কিমিয়ায়ে সা’আদাত, তৃতীয় জিলদ ।

লোভ ও লালসার আপদসমূহ:

প্রিয় পাঠক ! জানিয়া রাখ, মানুষের মধ্যে যতগুলি কুপ্রবৃত্তি আছে, লোভ তাহাদের মধ্যে অন্যতম কুপ্রবৃত্তি। লোভের প্রারম্ভে মানুষকে নানা প্রকারের অপমান ও লাঞ্ছনা ভোগ করিতে এবং পরিশেষে লজ্জার বোঝা ঘাড়ে বহন করিতে হয়। আবার লোভ চরিতার্থ না হইলে সঙ্গে সঙ্গে তাহা হইতে আরও কতকগুলি কুপ্রবৃত্তি উৎপন্ন হইয়া থাকে। কেননা, যে ব্যক্তি কাহারও নিকট হইতে কিছু পাইবার জন্য লোভ করে, প্রথম হইতেই তাহার সহিত চাটুবাক্য বলিয়া তাহার মন ভুলাইতে আরম্ভ করিয়া দেয় এবং কপটতামূলক আচারন করিতে থাকে। এবাদতে সাধুতা প্রদর্শনপূর্বক তাহার প্রিয়ভাজন হওয়ার চেষ্টা করে; সে ব্যক্তি ঘৃণা বা অবহেলা করিলেও সে উহা অকাতরে সহ্য করিয়া লয়। তাহার অন্যায় কথাগুলির প্রতিবাদ না করিয়া অম্লান বদনে হজম করিয়া যায়। আল্লাহ্ তা’আলা অবশ্য লোভ নামক প্রবৃত্তিকে ভাল উদ্দেশ্যেই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করিয়াছেন। কিন্ত মানুষ উহাকে নিজের সর্বনাশের পথে কাজে লাগাইতেছে। মানুষ নিজের জন্য নিধারিত অংশ লইয়া সন্তুষ্ট থাকে না। যাহারা অল্পে তুষ্ট থাকিতে পারে না, তাহার লোভ-লালসার কবল হইতে নিজদিগকে মুক্ত করিতে সম হয় না। হযরত রাসূলে করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন: দুইটি প্রান্তরপূর্ন স্বর্ন হস্তগত হইলেও মানুষ তৃতীয় আর একটি প্রান্তরপূর্ন স্বর্ন পাইতে লোভ করিবে। মাটি ব্যতীত আর কিছুই মানুষের অন্তরকে পরিতৃপ্ত করিতে পারিবে না।’ অর্থাৎ, কবরে না যাওয়া পর্যন্ত মানুষের অর্থ-ক্ষুধার নিবৃত্তি নাই। তিনি আরও বলিয়াছেন, মানুষের সমস্ত কিছুই বৃদ্ধ হইতে থাকে, কিন্তু দুইটি বস্তু উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পাইতে থাকে, একটি দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্খা, অপরটি বহু ধন-সম্পদ লাভের লালসা।

সূত্র: কিমিয়ায়ে সা‘আদাত, তৃতীয় জিলদ।

মুজাদ্দিদে আলফেসানী-১:

মহা প্রজ্ঞাময়, সর্বশক্তিমান, অতিশয় দয়াবান আল্লাহ তাবারাক ও তা’আলা শরীঅতে মোহাম্মদীকে সঠিক-সরল-সত্যপথে ও মতে পরিচালিত করার জন্য যুগে যুগে উম্মতের মধ্যে বহু সংস্কারকারী পাঠিয়ে থাকেন। তাঁরা দ্বীনে হকের উপর যে সব বেদ্বীনি ঢুকে পড়ে তা নিজেদের ঐশী প্রজ্ঞা বলে চিহ্ণিত করে দেন এবং সে অনুপাতে উম্মতে মোহাম্মদীকে সঠিক পথের সন্ধান প্রদান করেন।

এ জন্যই দেখা যায় হযরত শেখ আহমদ মুজাদ্দিদ আলফেসানী (রহ:)- এর সংস্কার আন্দোলনটি দ্বীন ইসলামের উপর নবজড়িত শিরক, বিদআত ও দ্বীনের উপর বহিরাগত দুশমনের আক্রমন এই দুই প্রকার বাতিলের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। এ মানসিকতার উপর  ভিত্ত করেই তিনি সর্ব প্রথম ভারতবর্ষে দাওয়াতী ও ইছলাহী আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিলেন।

ভারতবর্ষে যখন সম্রাট আকরব ইসলামকে সংক্ষিপ্ত করে (নিজের মন মত) হিন্দু ধর্মের সাথে সমঝোতা স্থাপন করত ‘দ্বীনে ইলাহী’ প্রতিষ্ঠা করতে চান তখন তার প্রতিবাদে শেখ আহমদ (র:) সোচ্চার কন্ঠে আন্দোলন শুরু করেন। আর ঠিক  তদ্রুপভাবে শিরক ও বিদআতে নিমজ্জিত মানুষকে সঠিক-সরল ও সত্য পথে টেনে আনার জন্যে তিনি তাঁর মাকতুবাত, মাওয়ায়েজ ও হেদায়েতের মাধ্যমে আন্দোলন চালান। তাঁর এ সংস্কারমূখী আন্দোলনের কারনেই তাঁকে মুজাদ্দিদে আলফেসানী (র:) নামে অভিহিত করা হয়।

তিনি সম্রাট আকবরের ভ্রান্ত আকীদার বিরুদ্ধে জেহাদ করতে গিয়ে শুধু যে সম্রাটের বিশাল শক্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে তা নয় বরং তাকে কিছু সংখ্যক আলেম নামধারী সম্রাটের কৃপা প্রার্থী এবং তোষামোদীদেরও সম্মূখীন হতে হয়েছিল সমধিকভাবে।

সূত্র: হযরত শেখ আহমদ মুজাদ্দিদে আলফেসানী (রহ:) জীবনী।

লালমনিরহাটে ঈদে-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব সাম্য ও মানবতার বার্তাবাহী আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) এর জন্মগ্রহণ উপলক্ষে লালমনিরহাটে আদর্শ আহছানিয়া মিশন বিভিন্ন কর্মসূচি ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদে-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন করেছে। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়সহ শান্তিকামী প্রত্যেক মানুষের কাছে এই দিনটি অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো সারা বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়। পৃথিবীতে হুজরে পাক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের শুভ আগমন সব নিয়ামতের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট। রাসুলে পাক (দ.)কে দুনিয়াতে প্রেরণের শুকরিয়া আদায় হিসেবে সুন্নী মূলমানেরা প্রতি বছর পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালন করে থাকে। রাসুলে পাকের পবিত্র জন্মবৃত্তান্ত, জীবনবৃত্তান্ত, নুরে মুহাম্মদির কেরামতের আলোচনা, শানে মোস্তফা ও প্রাসঙ্গিক শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের মুসলমানগণ তাদের জীবনকে গড়ে তোলার প্রয়াস পায়। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাব-গম্ভির পরিবেশে দিনটি উদযাপন করে থাকে। এ উপলক্ষে আদর্শ আহছানিয়া মিশন বালাটারী লালমনিরহাট জেলাশাখার সভাপতি সাবেক চীপ একাউন্টস কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে ৩, ৪ ও ৫ফেব্রুয়ারী/১২ তিনদিন ব্যাপী কর্মসূচি হাতে নেয়। কর্মসূচির মধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বাদ ফজর কোরান তেলোয়াত ও মিলাদ মাহফিল। বাদ মাগরিব মিলাদ ও আলোচনা। ৪ ফেব্রুয়ারী বাদ ফজর কোরান তেলোয়াত ও মিলাদ মাহফিল, বাদ আছর গজল প্রতিযোগিতা (নাত-এ-রাসুল) বাদ মাগরিব কোরান তেলোয়াত ও খতমে খাজেগান, বাদ এশা ফাতেয়া শরীফ, জিকির, মিলাদ মাহফিল ও নবীর জীবন আলোচনা, হামদ, নাত-এ রাসুল ও মুর্শিদী, শেষ রাত্রে সালাতুল তাছবিহ নামাজ ও তাহাজ্জুত নামাজ, মিলাদ মাহফিল। ৫ ফেব্রুয়ারী রোববার বাদ ফজর তবারক বিতরণ, সকাল ৮ টায় বিশাল একটি আনন্দ র‌্যালি আদর্শ আহছানিয়া মিশনের বালাটারী কার্যালয় থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে আবার সেখানে এসে শেষ হয় এবং র‌্যালি শেষে দুপুরে কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। এ সকল কর্মসূচি সফল করতে আদর্শ আহছানিয়ার সাধারণ সম্পাদক নায়েব আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আঃ সোবাহান, সদস্য রিন্টু ও সোহেল সার্বিক সহযোগিতা করেন। সকল কর্মসূচিতে লালমনিরহাট আদর্শ আহছানিয়া মিশনের শত শত ভক্ত অনুসারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র দেখুন এখানে

Blog at WordPress.com.

Up ↑

%d bloggers like this: